Notification texts go here Contact Us Download Now!
Posts

যিনি ইতিহাসকে পরাজিত করেছিলেন -আমির হামজা

প্লেভনের মহাবীর গাজী উসমান পাশা। 

ছবিতে গাজী ওসমান নূরী পাশা

“আপনি সেই ব্যক্তি, যিনি ইতিহাসকে পরাজিত করেছেন।”
এই বাক্যটি সাধারণ কোনো প্রশংসা ছিল না। এটি ছিল এমন একজন বীরের জন্য উচ্চারিত শব্দ, যার সামনে শত্রুরাও সম্মান নিয়ে মাথা নত করতে বাধ্য হয়েছিল। পৃথিবীর ইতিহাসে অসংখ্য যুদ্ধ হয়েছে, অসংখ্য সেনাপতি এসেছে গেছে, কিন্তু খুব কম মানুষই আছেন যাদের বীরত্ব বন্ধু-শত্রু সবাইকে একইসাথে বিস্মিত করেছে। গাজী উসমান পাশা ছিলেন সেই বিরল মানুষদের একজন।
উসমানী ইতিহাসে “উসমান” নামটি দুইবার সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে। প্রথমজন সেই মহান উসমান, যিনি উসমানী সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। যার নাম থেকেই “অটোম্যান” বা “উসমানী” নামের উৎপত্তি। আর দ্বিতীয়জন হচ্ছেন গাজী উসমান নূরী পাশা। যিনি প্রতিষ্ঠাতা না হয়েও সাম্রাজ্যের শেষ যুগে নিজের রক্ত, সাহস ও অসম্ভব প্রতিরোধের মাধ্যমে কিংবদন্তিতে পরিণত হয়েছিলেন।
আজও ইতিহাসে “প্লেভনের বীর” বললে মানুষ প্রথমে গাজী উসমান পাশাকেই মনে করে।
তিনি ছিলেন এমন একজন সেনাপতি, যিনি জানতেন তিনি হয়তো যুদ্ধ জিতবেন না, কিন্তু তবুও শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়াই করবেন। কারণ কিছু যুদ্ধ থাকে জয়ের জন্য নয়; সম্মান রক্ষার জন্য। কিছু প্রতিরোধ থাকে ভূমি রক্ষার জন্য নয়; ইতিহাসকে মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য যে, এখনও কিছু মানুষ মাথা নত করতে শেখেনি।
১৯ শতকের শেষভাগে উসমানী সাম্রাজ্য তখন ক্রমাগত দুর্বল হয়ে পড়ছে। ইউরোপীয় শক্তিগুলো একের পর এক অঞ্চল দখল করছে। বলকান অঞ্চল উত্তপ্ত। রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরেই উসমানীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের আগুন বুকে পুষে রেখেছিল। বিশেষ করে ক্রিমিয়ার যুদ্ধের পরাজয়ের পর রাশিয়া সুযোগ খুঁজছিল আবার আঘাত করার।
অবশেষে সেই সুযোগ আসে।
১৮৭৭ সালে রাশিয়া বুলগেরিয়া, মন্টিনেগ্রোসহ বিভিন্ন শক্তিকে সাথে নিয়ে উসমানী সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে বড় আকারের যুদ্ধ শুরু করে। তাদের লক্ষ্য ছিল বলকান অঞ্চলে উসমানী প্রভাব ধ্বংস করা এবং ইস্তাম্বুলের দিকে অগ্রসর হওয়া।
এই যুদ্ধে সবচেয়ে ঐতিহাসিক অধ্যায়ের নাম প্লেভনের অবরোধ।
প্লেভনে তখন কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান। রাশিয়ানরা বুঝেছিল, প্লেভন দখল করতে পারলে তাদের সামনে পথ অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে। আর উসমানীরা জানত, প্লেভন হারানো মানে শুধু একটি শহর হারানো নয়; পুরো যুদ্ধের ভারসাম্য বদলে যাওয়া।
এই ভয়ংকর পরিস্থিতিতে প্লেভনের দায়িত্ব দেওয়া হয় গাজী উসমান পাশাকে।
যখন তিনি সেখানে পৌঁছান, তখন তার হাতে খুব সীমিত সৈন্য ও অস্ত্র ছিল। অন্যদিকে রাশিয়ান বাহিনী ছিল সংখ্যায় ও অস্ত্রে বহুগুণ শক্তিশালী। কামান, গোলাবারুদ, রসদ সবদিক থেকেই তারা এগিয়ে।
কিন্তু ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর জিনিস কখনো শুধু অস্ত্র নয়। মানুষের ঈমান, আত্মবিশ্বাস এবং মরতে প্রস্তুত মানসিকতা অনেক সময় কামানের চেয়েও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। গাজী উসমান পাশা সেই শক্তিরই প্রতীক ছিলেন।
রাশিয়ানরা ভেবেছিল প্লেভন খুব দ্রুত পতন হবে। তারা ধারণাও করতে পারেনি, সামনে এমন একজন সেনাপতি দাঁড়িয়ে আছেন যিনি পুরো যুদ্ধের গতিপথ বদলে দেবেন।
প্রথম আক্রমণ শুরু হয় ভয়ংকর শক্তি নিয়ে। রাশিয়ানদের বিশাল বাহিনী কামানের গোলা বর্ষণ করতে করতে অগ্রসর হয়। তাদের আত্মবিশ্বাস ছিল প্রবল। কারণ সংখ্যার হিসাব বলছিল, উসমানীদের টিকে থাকার কথা না।
কিন্তু যুদ্ধ সবসময় সংখ্যার হিসাব মানে না।
গাজী উসমান পাশা তার সীমিত সৈন্য নিয়েও এমন প্রতিরোধ গড়ে তোলেন, যা রাশিয়ানদের হতভম্ব করে দেয়। উসমানী সৈন্যরা ট্রেঞ্চ যুদ্ধ, দ্রুত গুলি বর্ষণ এবং প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানকে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ব্যবহার করে।
এই যুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল উসমানী সৈন্যদের ব্যবহৃত আধুনিক রাইফেল। বিশেষ করে আমেরিকান পিবোডি-মার্টিনি রাইফেল এবং উইনচেস্টার রিপিটিং কার্বাইন রাশিয়ানদের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়ায়। কারণ এই অস্ত্রগুলো খুব দ্রুত গুলি ছুঁড়তে পারত। ফলে অল্প সংখ্যক সৈন্য দিয়েও উসমানীরা প্রচণ্ড আগুনের দেয়াল তৈরি করতে সক্ষম হয়।
রাশিয়ানরা যখন সামনে এগোতে চাইত, তখন তাদের উপর যেন আগুন ঝরে পড়ত।
প্রথম আক্রমণ ব্যর্থ হলো।
রাশিয়ানদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলো। উসমানীরা সংখ্যায় কম হয়েও তাদের থামিয়ে দিল। পুরো ইউরোপ অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। কারণ তখন সবাই ভেবেছিল উসমানী সাম্রাজ্য আর আগের মতো নেই। কিন্তু প্লেভন হঠাৎ সবাইকে মনে করিয়ে দিল এই সাম্রাজ্যের ভিতরে এখনও এমন কিছু মানুষ আছে, যারা শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়াই করতে জানে।
দ্বিতীয় আক্রমণ আরও ভয়ংকর ছিল।
রাশিয়ানরা এবার আরও বড় বাহিনী নিয়ে আসে। তাদের সাথে ছিল ভারী কামান ও অভিজ্ঞ অফিসাররা। তারা বুঝেছিল, প্লেভনকে হালকাভাবে নেওয়া যাবে না।
কিন্তু গাজী উসমান পাশাও প্রস্তুত ছিলেন।
তিনি তার সৈন্যদের শুধু যুদ্ধ শেখাননি; তিনি তাদের ভিতরে আত্মসম্মান জাগিয়ে তুলেছিলেন। তারা জানত, তারা শুধু একটি শহর রক্ষা করছে না; তারা পুরো উসমানী সাম্রাজ্যের সম্মান রক্ষা করছে।
এই দ্বিতীয় আক্রমণেও ভয়াবহ যুদ্ধ হয়। চারদিক ধোঁয়া, আগুন, রক্ত আর আর্তনাদে ভরে ওঠে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রাশিয়ানরা আবারও ব্যর্থ হয়।
প্লেভন তখন শুধু একটি যুদ্ধক্ষেত্র নয়; এটি প্রতিরোধের প্রতীকে পরিণত হয়।
তৃতীয় আক্রমণে রাশিয়ানরা আরও মরিয়া হয়ে ওঠে। কারণ তারা বুঝতে পারে, এই যুদ্ধ দীর্ঘ হলে পুরো ইউরোপে তাদের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এত বড় বাহিনী নিয়ে একটি শহরও দখল করতে না পারা তাদের জন্য অপমানজনক হয়ে উঠছিল।
কিন্তু উসমান পাশা যেন অন্য ধাতুতে গড়া মানুষ ছিলেন।
তিনি জানতেন তার সৈন্যরা ক্লান্ত। খাদ্য কমে যাচ্ছে। গোলাবারুদ সীমিত। আহতদের চিকিৎসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। তবুও তিনি আত্মসমর্পণের চিন্তা করেননি।
এখানেই একজন সাধারণ কমান্ডার আর একজন কিংবদন্তির পার্থক্য তৈরি হয়।
অনেক মানুষ জয়ের সময় বীর হয়। কিন্তু প্রকৃত বীর সেই, যে পরাজয় নিশ্চিত জেনেও মাথা নত করে না।
অবশেষে রাশিয়ানরা বুঝতে পারে সরাসরি আক্রমণে লাভ নেই। তখন তারা কৌশল বদলায়। তারা সরাসরি হামলা কমিয়ে প্লেভনকে অবরোধ করে ফেলে। চারদিক থেকে শহর ঘিরে ফেলা হয়। খাদ্য, রসদ, চিকিৎসা—সব পথ বন্ধ হয়ে যায়।
এটাই ছিল প্লেভনের সবচেয়ে ভয়ংকর সময়।
চার মাস ধরে অবরুদ্ধ শহরে উসমানী সৈন্যরা অসহনীয় কষ্ট সহ্য করে। ক্ষুধা, অসুস্থতা, ঠান্ডা, ওষুধের অভাব, সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। অনেক সৈন্য যুদ্ধের আগেই দুর্বল হয়ে পড়ছিল।
কিন্তু তবুও তারা লড়াই বন্ধ করেনি।
কারণ তাদের সামনে ছিলেন গাজী উসমান পাশা।
একজন সেনাপতির সবচেয়ে বড় শক্তি শুধু তার কৌশল নয়; তার উপস্থিতি। সৈন্যরা যখন দেখে তাদের কমান্ডার নিজেও কষ্ট সহ্য করছে, নিজেও পিছু হটছে না, তখন তারাও মৃত্যুকে ভয় পায় না।
এই সময় রাশিয়ান কমান্ডাররা উসমান পাশাকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানায়। কারণ তারা জানত, প্লেভনের অবস্থা ভয়াবহ। আর কয়েকদিন গেলে হয়তো প্রতিরোধ নিজে থেকেই ভেঙে পড়বে।
কিন্তু গাজী উসমান পাশা সেই বিখ্যাত উত্তর দেন “অস্ত্র নামিয়ে রাখার চাইতে আমি নিজের এবং শত্রুর রক্ত ঝরতে দেখতে বেশি পছন্দ করি।”
এই একটি বাক্যই তাকে ইতিহাসে অমর করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
কারণ এই কথার মধ্যে শুধু সাহস ছিল না; ছিল একজন মুসলিম যোদ্ধার আত্মসম্মান, ঈমান এবং শেষ পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার মানসিকতা।
অবশেষে চূড়ান্ত সংঘর্ষ শুরু হয়।
উসমান পাশা শেষ চেষ্টা হিসেবে অবরোধ ভেঙে বের হওয়ার পরিকল্পনা করেন। তীব্র যুদ্ধ শুরু হয়। চারদিক কামানের শব্দে কেঁপে ওঠে। উসমানী সৈন্যরা মরিয়া আক্রমণ চালায়।
কিন্তু ভাগ্য তখন আর তাদের পক্ষে ছিল না।
যুদ্ধের একপর্যায়ে গাজী উসমান পাশা পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। তার আহত হওয়ার খবর সৈন্যদের মনোবলে বড় আঘাত হানে। ধীরে ধীরে প্রতিরোধ ভেঙে পড়ে।
প্লেভন পতন হয়।
হাজার হাজার উসমানী সৈন্য নিহত বা বন্দী হয়। শহর রাশিয়ানদের হাতে চলে যায়।
কিন্তু মজার বিষয় হলো প্লেভন পতনের পরও পুরো ইউরোপে যে নামটি সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছিল, সেটি রাশিয়ার কোনো জেনারেলের নাম নয়। সেটি ছিল গাজী উসমান পাশার নাম।
কারণ তিনি পরাজিত হয়েও ইতিহাসকে জয় করেছিলেন।
রাশিয়ার জার আলেকজান্ডার নিজেও তার বীরত্বে মুগ্ধ হন। শত্রুরাও বুঝতে পেরেছিল, এই মানুষটিকে অপমান করা যায় না। তাকে বন্দী করা যায়, কিন্তু ছোট করা যায় না।
তাই তাকে সম্মানের সাথে ইস্তাম্বুলে পাঠানো হয়।
ইস্তাম্বুলে ফিরে তিনি বীরের মর্যাদায় গ্রহণ করা হন। সুলতান
Abdul Hamid II
তাকে “গাজী” উপাধি প্রদান করেন এবং পুনরায় গুরুত্বপূর্ণ সামরিক দায়িত্ব দেন।
এখানেই বোঝা যায়, উসমানী সাম্রাজ্য তখন দুর্বল হলেও এখনও তারা বীরদের সম্মান করতে জানত।
গাজী উসমান পাশার মৃত্যু হয় ১৯০০ সালের ৫ই এপ্রিল।
কিন্তু কিছু মানুষ মৃত্যুর পরও ইতিহাসের ভিতরে জীবিত থাকেন। তিনি ছিলেন সেই মানুষদের একজন।
তার ওসিয়ত অনুযায়ী তাকে Fatih Mosque
প্রাঙ্গণে দাফন করা হয়। আজও সেখানে তার কবরের উপর উসমানী পতাকা উত্তোলন করা হয়। যেন ইতিহাস এখনও তাকে ভুলে যায়নি।
আজকের মুসলিম বিশ্বের জন্য গাজী উসমান পাশার জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা কী?
সম্ভবত এই যে, পরাজয় সবসময় অপমান নয়।
কখনো কখনো এমন পরাজয়ও আছে, যা শত বিজয়ের চেয়েও মহান। কারণ কিছু মানুষ যুদ্ধ জিতে ইতিহাসে জায়গা পায়, আর কিছু মানুষ পরাজিত হয়েও কিংবদন্তি হয়ে যায়।
গাজী উসমান পাশা সেই দ্বিতীয় দলের মানুষ।
তিনি আমাদের শেখান, সংখ্যা কম হলেও লড়াই থামানো যাবে না। চারদিক থেকে অবরুদ্ধ হলেও আত্মসম্মান হারানো যাবে না। মৃত্যু সামনে দাঁড়িয়ে থাকলেও মাথা নত করা যাবে না।
আজ পৃথিবী বদলে গেছে। সাম্রাজ্য নেই, সেই যুদ্ধও নেই। কিন্তু বীরত্ব, আত্মত্যাগ আর সম্মানের মূল্য কখনও বদলায় না।
এই কারণেই প্লেভনের নাম আজও উচ্চারণ করা হয় শ্রদ্ধার সাথে। কারণ সেখানে শুধু একটি যুদ্ধ হয়নি; সেখানে ইতিহাস দেখেছিল, কিভাবে কিছু ক্ষুধার্ত, ক্লান্ত সৈন্য শেষ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকতে পারে শুধুমাত্র ঈমান, সম্মান আর নেতৃত্বের শক্তিতে।
আর এই কারণেই গাজী উসমান পাশাকে বলা হয়-
“যিনি ইতিহাসকে পরাজিত করেছিলেন।”
কারণ ইতিহাস সাধারণত বিজয়ীদের কথা মনে রাখে। কিন্তু তিনি এমন একজন মানুষ, যাকে ইতিহাস পরাজিত হয়েও ভুলতে পারেনি।
আজও তার কবর যেন নতুন প্রজন্মকে একটি কথাই মনে করিয়ে দেয়-
আহত বীরেরা মরে না।
তারা তাদের উত্তরসূরীদের জন্য জ্বলন্ত বারুদ রেখে যায়।
আর সেই বারুদ বিস্ফোরণের জন্য একজন মানুষের জেগে ওঠাই যথেষ্ট।


এই ইতিহাসের গভীরে যেতে হলে পড়তে হবে সময়ের প্রয়োজনে স্মৃতিচারণ (দ্বিতীয় সংস্করণ) আমির হামজা বাঁধন। বইটির প্রি-অর্ডার করতে এখানে ক্লিক করুন



© সর্বস্তরের সংরক্ষিত। প্রকাশক ও লেখকের অনুমতি ব্যতীত প্রচার ও প্রিন্ট সম্পূর্ণ নিষেধ।
Cookie Consent
We serve cookies on this site to analyze traffic, remember your preferences, and optimize your experience.
Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.
Site is Blocked
Sorry! This site is not available in your country.