ইহুদি ও ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে জিহাদের ঘোষণা দেওয়া এবং ফতোয়ার মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহকে উদ্বুদ্ধ করার অভিযোগে ২০০৪ সালে শাইখ আলী বিন খুদাইর হাফিঃ কে গ্রেফতার করে সৌদি তাগুত সরকার।
শাইখ এর সংক্ষিপ্ত পরিচয় :
শাইখ আলী বিন খুদাইর বিন ফাহাদ আল খুদাইর। তিনি ১৩৭৪ হিজরীতে রিয়াদে জন্মগ্রহণ করেন। কাসিমে অবস্থিত জামিয়াতুল ইমাম থেকে ১৪০৩ হিজরীতে উসূলুদ দ্বীনে ডিগ্রী নিয়ে বের হন। যৌবনের শুরু লগ্ন থেকেই তিনি ইলম অর্জন শুরু করেন। আর এর মাঝেই তিনি মাধ্যমিক শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হয়ে পড়েন। সর্বপ্রথম তিনি শাইখ আব্দুর রউফের কাছে কুরআনে কারীমের তিলাওয়াত এবং তাজবীদ শিক্ষা করেন। তাঁর প্রাথমিক উস্তাদদের মাঝে আরো হলেন শাইখ আলী বিন আব্দুল্লাহ আল জর্ডানি, শাইখ মুহাম্মাদ বিন মুহাইযি, যামানার কাজী শাইখ মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম। আল্লাহ তাঁদের ও তাঁর সমস্ত উস্তাদদের জান্নাতকে শান্তিময় ও প্রশস্ত করে দিন।
শিক্ষা জীবনের বর্ণনাঃ
১) আল্লামা মুজাহিদ হামুদ বিন উক্বলা আশ শুয়াইবি। তাঁর কাছে তাওহীদ, আক্বিদা সহ অন্যান্য শাস্ত্রে ইলম অর্জন করেন।
২) শাইখ মুজাহিদ মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল মানসুর। উনার কাছে ১৪০৯ থেকে ১৪১৩ হিজরী পর্যন্ত তাওহীদ, আক্বিদা, ফারায়েজ, হাদিস ও ফিকহ শাস্ত্রে ইলম লাভ করেন।
৩) শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল উসাইমিন। তাঁর কাছে ১৪০০ থেকে ১৪০২ হিজরি পর্যন্ত ইসলামি ফিকহে জ্ঞান লাভ করেন।
৪) আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ হাফিজাহুল্লাহ। হুসাইন রাঃ এর বংশধর। উনার কাছে ফিকহে ইলম লাভ করেন।
৫) শাইখ মুহাম্মাদ বিন সুলাইমান আলীত। তাঁর কাছে ওকী রহিমাহুল্লাহ এর কিতাবুয যুহুদ এবং ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল রহিমাহুল্লাহ এর কিতাবুল ওয়ারয়ী পড়েছেন। তিনি তাঁর শিক্ষাগত জীবনে প্রায় সব বিজ্ঞ আলেমদের কাছ থেকেই ইলম অর্জন করেছেন।
তাঁর কয়েকটি হালাকা ও দারসগাহ ছিল যেখানে তিনি তাওহীদ, আক্বিদা ও ফিকহ বিষয়ে শিক্ষা দিতেন। ১৪০৫ হিজরীতে তিনি সর্বপ্রথম বিভিন্ন মসজিদে দারস দেওয়া শুরু করেন। তখন ছাত্র সংখ্যা হয়ত পাঁচ জন করে হবে। প্রায় প্রতিদিনই ইশা ও ফজরের পর দারস দিতেন। এভাবে বাহিরে ভিতরে অনেক ছাত্রই উনার কাছে ইলম শিখতেন। তাঁদের মধ্য থেকে অনেকেই কাজী, ডাক্তার, শিক্ষক, দায়ী হয়েছেন। আর সর্বশেষ ক্রুসেডার আমেরিকার হামলাগুলোর পর শাইখ আলী ইহুদি ও ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে জিহাদের ঘোষণা দিলেন এবং ফতোয়ার মাধ্যমে মুসলিমদের উদ্বুদ্ধ করতে শুরু করলেন। আর এ কারণেই শাইখ সহ আরো অনেক দায়ী, যেমন শাইখ নাসির আল ফাহাদ, আহমাদ খালিদ সৌদি তাগুত বাদশাহ কর্তৃক জেলখানায় আবদ্ধ হন এবং নির্যাতনের শিকার হন।
আল্লাহ সৌদি তাগুতের কারাগার থেকে তাঁর মুক্তি তরান্বিত করুন, আমিন।
