বর্তমানে বাংলাদেশ নানা ধরনের সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এমতা অবস্থায় আমরা যারা মুসলিম তরুণ রয়েছি তাদেরকে আসলে কি করা উচিত বা কোরআন এই মুহূর্তে আসলে কি ধরনের দিকনির্দেশনা দেয় এ বিষয়টি আমাকে খুব ভালোভাবে ভাবিয়ে তুলছিল।
পবিত্র কুরআনে একটি সুন্দর কাহিনী বর্ণিত হয়েছে যেটিকে বলা হয়েছে সর্বশ্রেষ্ঠ কাহিনী ।কাহিনীটা হলো সূরা ইউসুফ অর্থাৎ ইউসুফ আ এর কাহিনী।
কাহিনী আমরা সবাই মোটামুটি জানি যে ইউসুফ আলাইহিস ওয়াসাল্লাম মিশরের দাস হিসেবে বিক্রি হয়ে গিয়েছিলেন যখন তার ভাইয়েরা তাকে কুপে নিক্ষেপ করেছিল সেই কূপ থেকে একটা বণিক দল তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে মিশরে বিক্রি করে দিয়েছিল রাজ পরিবারের কাছে।
তো ঘটনা এখানেই শেষ নয় ঘটনা হচ্ছে ইউসুফ আঃ দীর্ঘ সময় মিথ্যা মামলায় জেলে ছিলেন। এক পর্যায়ে মিশরের বাদশা যখন রাতের বেলা ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন দেখলেন যে সাতটি শুষ্ক শীষ সাতটি সতেজ শীষ খেয়ে ফেলছে এবং ৭ টি সবল গাভীকে সাতটি দুর্বল গাভী খেয়ে ফেলছে । মিশরের বাদশা এই স্বপ্নের ব্যাখ্যা শোনার জন্য মিশরের সর্বশ্রেষ্ঠ জাদুকর এবং গণকদের ডেকেও এর কোন উত্তর পান নাই তখন ইউসুফ আঃ এর উত্তর খুব চমৎকার এবং সুন্দরভাবে দিয়েছিলেন জেল থেকেই যে আগামী সাতটি বছর ব্যাপক আকারে ফসল চাষ হবে এবং পরবর্তী সাতটি বছর ব্যাপক দুর্ভিক্ষ হবে ।
ব্যাখ্যা শুনে বাদশা অত্যন্ত খুশি হয়ে যান এবং ইউসুফ আলাইহিস সাল্লামকে মুক্ত করতে চাইলে ইসুফ আলাইহিস সালাম তার উপরে হওয়া মিথ্যা জুলুমের বিচার চান অতঃপর বিচারের পর ইউসুফ আলাইহিস সালাম মুক্ত এবং স্বাধীনভাবে বিচরণ করে।
সূরা ইউসুফের যদি ৫৫ ও ৫৬ নং আয়াতটি খুব গভীরভাবে অধ্যায়ন করেন তাহলে সেখানে দেখতে পারবেন মিশরের এই সংকটকালে ইউসুফ আলাইহিস সালাম একটি দৃঢ় কন্ঠে কথা বলেছিলেন সে কথাটি হচ্ছে আপনি আমাকে দায়িত্ব দিন আমি পূর্ণ আমানতদারিতা ও জ্ঞানের সাথে এই সংকট মোকাবেলা করব । সূরা ইউসুফের ৫৫ নং আয়াতে যে আরবি শব্দ সেটি যদি খুব ভালোভাবে খেয়াল করেন তাহলে দেখতে পারবেন সেখানে বলা হয়েছে যে হাফেজ এবং আলীম । হাফিজ শব্দের অর্থ সংরক্ষণ বা আমানতদারিতা এবং আলিম শব্দের অর্থ হচ্ছে জ্ঞানী অর্থাৎ যার মধ্যে জ্ঞান রয়েছে যার ভিতর জ্ঞান সমৃদ্ধ তাকে বলা হয় আলীম ।
তো ইউসুফ আঃ ঠিক এই দুটি শব্দ উচ্চারণ করেছিলেন। পরবর্তীতে তাকে দায়িত্ব দেয়া হয় এবং তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ও আমানতদার সাথে তার দায়িত্ব পালন করে। এরপর ৫৬ নং আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বলেন এভাবেই আমি ইউসুফকে স্বাধীন করে দিলাম এবং সে মুক্তভাবে ও স্বাধীনভাবে জমিনের বিভিন্ন জায়গায় সে বিচরণ করতেছিল।
অর্থাৎ মানুষ যখন নিজের মধ্যে আমানতদারিতা ও পরিপূর্ণ যোগ্যতা অর্জন করে এবং সেই অনুযায়ী নিজের রিজিকের ব্যবস্থা করতে পারে তখন মানুষ স্বাধীন হতে পারে এবং স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারে ।
এখান থেকে বর্তমানে আমাদের মুসলিম যুবকদের শেখার অনেক কিছু আছে প্রথম কথা হচ্ছে কখনোই জীবনে ধৈর্য হারা হওয়া যাবে না, চারদিক থেকে যখন জমিন সংকুচিত হয়ে আসবে তখন আল্লাহর উপর ভরসা স্থাপন করতে হবে, নিজের নীতি আদর্শ ও স্বপ্নের কাছে কখনোই আপোষ করা যাবে না । চরম অন্ধকার জেলেও ইউসুফ আঃ এর স্বপ্নই তাকে বাঁচিয়ে রেখেছিল কারণ সেই ছোটবেলায় তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন যার অর্থ ছিল তার সম্মান তার বাবা এবং ভাইদের চাইতে অনেক বেশি হবে । বাস্তবে ঠিক হয়েছিল তাই।
ইউসুফ আলাইহিস সালাম যেভাবে জাতীয় সংকট মোকাবেলায় নিজের জ্ঞান ও আমানতদারিতা প্রমাণ দিয়েছিলেন বর্তমানে মুসলিম যুবকদেরও ঠিক একই ভাবে এগিয়ে আসতে হবে ঠিক যেভাবে এসেছিলেন হযরত ইউসুফ আলাইহিস সাল্লাম।
শুধুমাত্র রাত জেগে ইবাদত বন্দেগির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না বরং আমাদেরকে অবশ্যই জাতীয় সম্পদ রক্ষা ও জাতীয় সংকট মোকাবেলায় এগিয়ে আসতে হবে। ইসলামের এই গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বোধ হয় আমরা সবাই ভুলে যাচ্ছি অথচ এটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক যে ইসলামের জাতির দুঃসময়ে জাতির হাল ধরা ,জাতীয় সংকটে এগিয়ে আসা এবং যোগ্যতা ও দক্ষতার সাথে সংকট মোকাবেলা করে মানুষের কল্যাণে কাজ করা।
আল্লাহ আমাদেরকে তৌফিক দিন আমিন
