মানুষ ভাবে কলম্বাস আমেরিকা আবিষ্কার করেছে, কিন্তু ৪০০ বছর আগেই একজন মুসলিম বিজ্ঞানী অংক কষে বলে দিয়েছিলেন - ওই সাগরের ওপারে আরও পৃথিবী আছে!
এটা কোনো গল্প না, ইতিহাস।
১০২৫ সাল। স্থান: নন্দনা দুর্গ, পাঞ্জাব (বর্তমান পাকিস্তান)
আবু রায়হান আল-বিরুনি তখন সুলতান মাহমুদ গজনীর সাথে ভারতবর্ষে। হাতে কোনো স্যাটেলাইট নেই, কোনো আধুনিক যন্ত্র নেই। আছে শুধু কাঠ-পিতলের তৈরি একটি Quadrant আর তাঁর মাথার গণিত।
তিনি যা করলেন, তা আজও বিজ্ঞানীদের অবাক করে:
ধাপ ১: দুটি ভিন্ন জায়গা থেকে কোণ মেপে তিনি পাহাড়ের উচ্চতা বের করলেন - ৬৫২ হাত, মানে প্রায় ৩১৭ মিটার।
ধাপ ২: সেই পাহাড়ের চূড়ায় উঠে তিনি মাপলেন দিগন্ত কতটা নিচে নেমে গেছে। মাত্র ০°৩৪' কোণ!
এই দুটো তথ্য দিয়েই তিনি সূত্র বসিয়ে দিলেন: R = h \cdot \cos(\theta) / (1 - \cos(\theta))
ফলাফল? পৃথিবীর ব্যাসার্ধ ৬৩৩৯.৯ কিমি।
আধুনিক স্যাটেলাইটে মাপা ব্যাসার্ধ ৬৩৫৬.৭ কিমি। ভুল মাত্র ০.২৬%!
১০০০ বছর আগে, খালি চোখে!
কিন্তু এখানেই শেষ নয়। এই মাপ থেকেই তিনি বুঝলেন, আমরা যে এশিয়া-ইউরোপ-আফ্রিকাকে পুরো পৃথিবী ভাবি, এটা আসলে পৃথিবীর ১/৩ ভাগও না। বিশাল সমুদ্র ফাঁকা পড়ে আছে। তাই যুক্তি বলছে, ওই বিশাল সমুদ্রে আরও মহাদেশ থাকবেই।
তিনি কখনো বলেননি তিনি আমেরিকায় গেছেন। তিনি শুধু বলেছিলেন - গণিত বলছে, থাকতে হবে।
আজ আমরা জানি, তিনি সত্যিই ঠিক ছিলেন।
আমরা তারা দেখে স্বপ্ন দেখি, আর আল-বিরুনি তারা মেপে পৃথিবীকে চিনেছিলেন।
