Notification texts go here Contact Us Download Now!
المشاركات

তাবেয়ীদের দ্বারা পাথরে খোদাই

সৌদি কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি ইসলামের একেবারে প্রাথমিক যুগে হয়তো সাহাবিদের, অথবা মোস্ট প্রবাবলি তাবেয়ীদের দ্বারা পাথরে খোদাই করে কিছু লেখা প্রকাশ করেছে। এবং সেগুলো জাস্ট অ্যামেজিং। 

সৌদি আরবের প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ মদিনার আল-মাহদ প্রদেশে খননকার্য চালিয়ে প্রচুর পাথর উদ্ধার করেছে, যেগুলোর গায়ে বিভিন্ন ধরনের বার্তা খোদাই করে লেখা হয়েছিল।

এগুলোর মধ্যে আছে প্রাক-ইসলামিক কবিতা, আছে সামুদ জাতির ভাষায় লেখা বিভিন্ন বাক্য, এবং সেই সাথে অন্তত ৪৬৭ টা পাথরে আছে ইসলামিক টেক্সট।

কয়েকটা পাথরে লেখা আছে ইসলামের প্রথম যুগের খলিফাদের নাম এবং তাদের জন্য প্রার্থনা। ধারণা করা যায়, যার নাম লেখা হয়েছে, সে সময় সেই খলিফার শাসন চলছিল।

যেমন একটা পাথরের গায়ে লেখা: "আল্লাহ হচ্ছেন এই দুনিয়ায় এবং আখিরাতে উমর ইবন আল-খাত্তাবের অভিভাবক।"

অন্যান্য পাথরে স্থান পেয়েছে অন্যান্য খলিফাদের নাম, তাওহিদের সাক্ষ্যসহ বিভিন্ন লেখা।

এই ধরনের আবিষ্কার অবশ্য এটাই প্রথম না। গত কয়েক বছরে সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় এরকম পাথরের সন্ধান পাওয়া গেছে, যেগুলোর গায়ে এই ধরনের কথা লেখা আছে। কার্বন ডেটিং করে সেগুলোর সময়কালও ঠিকঠাক নির্ণয় করা সম্ভব হয়েছে।

কিছু পাথর বহন করছে ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষ্য। যেমন একটা পাথরের গায়ে লেখা: "আমি আমর ইবনে রাবিয়া আল-সাকাফি। এবং আমি এটা লিখছি ইফ্রিকিয়া জয়ের বছরে।"

ইফ্রিকিয়া বলতে সে সময় তিউনিসিয়াকে বোঝানো হতো। এবং মুসলমানরা তিউনিসিয়া জয় করে ২৭ হিজরিতে। 

কিছু পাথর আছে, যেগুলো কিছু কিছু হাদিসের সহিহ হওয়ার প্রমাণ বহন করে। 

যেমন একটা পাথরে লেখা আছে: "আমি আল-ওয়ালিদ, আব্দুল্লাহ ইবনে দুই ডানাওয়ালা জাফরের মুক্ত দাস। আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার প্রতি রহম করুন।"

এখানে "দুই ডানাওয়ালা" টার্মটা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মুতার যুদ্ধে জাফর ইবনে আবু তালিব যখন শহিদ হন, তখন তার দুই হাত বিচ্ছিন্ন ছিল। 

হাদিসে আছে, সে সময় রাসুল (স) সঙ্গীদেরকে বলেছিলেন, আল্লাহ তাকে জানিয়েছেন, জান্নাতে জাফরের দুই হাতকে তিনি দুটো ডানা দিয়ে প্রতিস্থাপিত করে দিবেন, যেন তিনি ফেরেশতাদের সাথে উড়ে বেড়াতে পারেন।

এই শিলালিপিতে জাফরের নামের আগে দুই ডানাওয়ালা উপাধিটা ঐ হাদিসেরই রেফারেন্স।

এছাড়াও কিছু কিছু পাথরে ছোট ছোট সুরা, যেমন এখলাস এবং নাসরও পাওয়া গেছে। 

তবে সবচেয়ে বেশি আছে এই ধরনের লেখা: আমি অমুক। নিশ্চয়ই আল্লাহ ছাড়া আর কোনো মাবুদ নাই। হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করুন।

অ্যামেজিং না ব্যাপারটা? 

এই সময়ে কোনো পাহাড়ে গেলে দেখা যায় মানুষ লিখে রাখছে বিভিন্ন গানের কলি, অথবা অমুক+তমুক টাইপের হাবিজাবি লেখা।

কিন্তু সেই ১৩০০-১৪০০ বছর আগে, যখন লেখার উপকরণই ছিল বিরল, সেই সময়ে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যাওয়ার সময় কেউ একজন হয়তো একটা পাথরের খন্ড দেখতে পেল, সেখানে সে অন্য কিছু না লিখে রাখল তার নিজের নাম, নিজের ধর্মের প্রতি সাক্ষ্য, এবং নিজের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনার কথা!

সংগৃহীত

Cookie Consent
We serve cookies on this site to analyze traffic, remember your preferences, and optimize your experience.
Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.
Site is Blocked
Sorry! This site is not available in your country.